কথা
সত্যযুগে নাড়ীজঙ্ঘের বংশে জন্ম নেওয়া মুর নামে এক দানব এতই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে সে ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে। দেবতারা ভয়ে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন, এবং শেষে শিবের পরামর্শে ক্ষীরসাগরে শায়িত বিষ্ণুর কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করলেন।
বিষ্ণু যুদ্ধে বেরোলেন। কাহিনি অনুযায়ী মুরের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সেই যুদ্ধ চলেছিল এক হাজার দিব্য বছর। বিষ্ণু দানবসেনা ধ্বংস করলেন, কিন্তু মুর নিজে পরাজিত হল না। ক্লান্ত হয়ে বিষ্ণু বদরিকাশ্রমে হিমবতী নামে এক গুহায় গিয়ে বিশ্রামের জন্য শয়ন করলেন।
মুর তাঁকে নিদ্রিত অবস্থায় হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুহায় তাঁর পিছু নিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিষ্ণুর দেহ থেকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিতা এক প্রখর তেজস্বিনী যুবতী আবির্ভূত হলেন। তিনি মুরকে যুদ্ধে আহ্বান করলেন এবং একটিমাত্র হুংকারে তাকে ভস্ম করে দিলেন।
বিষ্ণু জেগে উঠে দানবকে মৃত দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, কে এ কাজ করেছে। দেবী বললেন, তাঁকে রক্ষা করার জন্য তাঁরই শক্তি থেকে তাঁর জন্ম। প্রসন্ন হয়ে বিষ্ণু বললেন, যেহেতু তিনি মার্গশীর্ষের কৃষ্ণপক্ষের একাদশ দিনে জন্মেছেন, তাই তাঁর নাম হবে একাদশী, এবং তাঁকে একটি বর দিলেন।
একাদশী প্রার্থনা করলেন, যে ব্যক্তি ভক্তিভরে তাঁর দিনে উপবাস করবে সে যেন পাপমুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে পৌঁছায়। বিষ্ণু সেই বর দিলেন এবং ঘোষণা করলেন যে কোনো ব্রতই তাঁর কাছে এর চেয়ে প্রিয় হবে না। এই কারণেই প্রতি মাসের শুক্ল ও কৃষ্ণ উভয় পক্ষের একাদশীতে উপবাস রাখা হয়, এবং অনেক পরম্পরায় উৎপন্না একাদশীকে বছরের প্রথম একাদশী বলে গণ্য করা হয়।
প্রথাগত কাহিনি থেকে আমাদের নিজের ভাষায় পুনর্কথিত; পরিবারে ও ব্রত-পুস্তিকায় প্রচলিত সংস্করণগুলির খুঁটিনাটি ভিন্ন।